পুকুরের মাটি খেলার মাঠ ও রাস্তা নষ্ট করে নেওয়া হচ্ছে ইটভাটায়।
নওগাঁর বদলগাছীতে ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে মিঠাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে।
উপজেলার মিঠাপুর উচ্চবিদ্যালয়ের জায়গায় সৈকত নামের এক মাটি ব্যবসায়ীকে দিয়ে এই পুকুর খনন করিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পুকুরের মাটি খেলার মাঠ ও রাস্তা নষ্ট করে নেওয়া হচ্ছে ইটভাটায়।
ইউনিয়ন বিএনপির এই নেতা মিঠাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি হওয়ায় নিজেই পুকুর খননের অনুমতি দিয়েছেন, যা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি করেছে। হঠাৎ এই খননকাজের কারণে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকেরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মিঠাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে প্রায় এক একর জমিতে বিশাল গর্ত করে পুকুর খননের কাজ শুরু হয়েছে। পুকুরটির দক্ষিণ পাশে সাধারণ মানুষের চলাচলের পাকা রাস্তা আর উত্তরে রয়েছে মিঠাপুর দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের মাঠ। প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মাত্র চার ফুট দূরে খনন করা এই পুকুরটির গভীরতা হতে পারে ১৫ থেকে ২০ ফুট। ফলে শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা গেছে, যে জায়গায় পুকুরটি খনন করা হচ্ছে সেটি মিঠাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের জমি। দীর্ঘদিন ধরে জায়গাটি ডোবার মতো পড়ে ছিল। পাশেই প্রাথমিক বিদ্যালয় হওয়ায় শিশুদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ডোবাটি ভরাট করার পরিকল্পনা ছিল সংশ্লিষ্টদের।
কিন্তু গত জুলাই আন্দোলনের পর আনোয়ার হোসেন উচ্চবিদ্যালয়ের সভাপতি মনোনীত হওয়ার পর ডোবাটি খননের তোড়জোড় শুরু করেন। সবশেষ ১৭ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সেখানে খননকাজ শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, পুকুরের মাটি ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা ও অভিভাবকেরা বলছেন, যেভাবে পুকুরটি খনন করা হচ্ছে, তাতে ছোট শিশুরা যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। তারা দ্রুত এই খননকাজ বন্ধের জন্য উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
মিঠাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিব বলেন, “পুকুর খনন শুরুর সময় আমাদের শিক্ষকেরা আনোয়ার হোসেনকে নিষেধ করেছিলেন। কিন্তু তিনি শোনেননি। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। বিদ্যালয়ের সামনে এত গভীর পুকুর থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মিঠাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, “মাটি বিক্রি করা হচ্ছে না, শুধু পাড় বাঁধা হচ্ছে। ইউএনও কাজ বন্ধ রাখতে বলেছেন, তাই এখন বন্ধ আছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য পাড় বেঁধে দিতে হচ্ছে।”
মাটি বিক্রির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমি তাকে (মাটি ব্যবসায়ী) কাটতে বলেছি, কিন্তু মাটি বিক্রি করতে নিষেধ করেছি। ছোট শিক্ষার্থীদের কথা আমিই ভাবব, আমি এখানকার স্থানীয় ছেলে।”
মাটি ব্যবসায়ী সৈকত বলেন, “সংস্কার করতে গিয়ে কিছু মাটি থেকে যায়, সেগুলো ইটভাটায় নেওয়া হয়।”
তবে প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেই জানিয়ে তিনি দাবি করেন, স্কুল কর্তৃপক্ষই তাকে খনন করতে বলেছে।
বদলগাছী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, “আমি বিষয়টি জেনেছি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করেছি। ওই জায়গায় পুকুর খনন হলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
ইউএনও ইশরাত জাহান ছনি বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুকুর খননের কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।